যৌতক এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি
যৌতক প্রথা আমাদের সমাজের একটি নিন্দনীয় ও অমানবিক প্রথা। এটি একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা নারীর মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করে। বিবাহকে পবিত্র বন্ধন হিসেবে না দেখে যখন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিচার করা হয়, তখন সমাজের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই যৌতক প্রথা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা আজ সময়ের দাবি।
বর্তমান সমাজে যৌতকের প্রভাব ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। অনেক পরিবার মেয়ের বিয়ে দিতে গিয়ে সর্বস্ব হারায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে যৌতকের দাবিতে নববধূ নির্যাতনের শিকার হয়, এমনকি প্রাণ হারাতেও হয়। যৌতক একটি মেয়ের জীবনে দুঃখ, অপমান ও অনিশ্চয়তা ডেকে আনে। এটি নারীর প্রতি অবিচারের সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ।
যৌতকের কারণে সমাজে পারিবারিক অশান্তি বাড়ে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে বিশ্বাস ও ভালোবাসার পরিবর্তে লোভ ও স্বার্থ প্রবেশ করে। এর ফলে সংসারে কলহ সৃষ্টি হয় এবং অনেক পরিবার ভেঙে যায়। একই সঙ্গে নারীর আত্মসম্মান নষ্ট হয় এবং সে সমাজে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
যৌতক প্রথা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারকে সচেতন হতে হবে এবং যৌতকবিহীন বিবাহে উৎসাহ দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারী অধিকার ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি যৌতক বিরোধী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, যাতে কেউ এই অন্যায় প্রথাকে প্রশ্রয় না দেয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিকতার পরিবর্তন। মেয়েকে বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। যুব সমাজ যদি যৌতকের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তবে এই কুপ্রথা নির্মূল করা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, যৌতক শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে যৌতকের মতো ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিকে আজই চিরতরে বিদায় জানাতে হবে।
আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে প্রতিজ্ঞা করি।
যৌতক নয়, মানবিকতা ও ভালোবাসাকে প্রাধান্য দেব।


