চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা না হলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়
উন্নয়ন একটি জাতির অগ্রগতির প্রধান সূচক। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিল্প ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মাধ্যমে একটি দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যায়। কিন্তু এই অগ্রযাত্রার সবচেয়ে বড় বাধা হলো চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি। যতদিন এই দুই সামাজিক ব্যাধি সমাজে বিদ্যমান থাকবে, ততদিন প্রকৃত উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়।
চাঁদাবাজি মানুষের উপার্জিত অর্থ জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়ার একটি অমানবিক প্রক্রিয়া। এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা ও সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। অনেক উদ্যোক্তা চাঁদার ভয়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হয়, ফলে কর্মসংস্থান কমে যায় এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
দুর্নীতি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ঘটায়। উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার—এসবের ফলে দেশের অর্থ সঠিক কাজে ব্যবহৃত হয় না। স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা ও বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। এতে জনগণের রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায়।
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি একসঙ্গে সমাজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষ অবহেলিত হয়, আর অসৎ ব্যক্তিরা সুবিধা পায়। এর ফলে তরুণ প্রজন্ম ভুল পথে পরিচালিত হয় এবং সমাজে অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মনে করার প্রবণতা তৈরি হয়।
এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে শক্ত ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানসিকতার পরিবর্তন। দেশপ্রেম শুধু মুখে নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে হবে। তরুণ সমাজ যদি সৎ ও সাহসী ভূমিকা পালন করে, তবে সমাজ থেকে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর করা সম্ভব।
পরিশেষে বলা যায়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়। এই দুটি ব্যাধি নির্মূল না হলে শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক অগ্রগতি কখনোই টেকসই হবে না। তাই প্রকৃত উন্নয়নের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
কারণ—
চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজই প্রকৃত উন্নয়নের ভিত্তি।

