সাংবাদিক নির্যাতন কি কখনো বন্ধ হবে না?
সাংবাদিক সমাজের দর্পণ। তারা সত্য তুলে ধরেন, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়ান। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—আজও আমাদের সমাজে সাংবাদিকরা নিরাপদ নন। সত্য প্রকাশের অপরাধে অনেক সাংবাদিক নির্যাতন, হুমকি, এমনকি হত্যার শিকার হচ্ছেন। তাই প্রশ্ন উঠছে—সাংবাদিক নির্যাতন কি কখনো বন্ধ হবে না?
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, ক্ষমতাবানদের অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ করলেই অনেক সাংবাদিককে ভয়ভীতি দেখানো হয়। কখনো মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়, কখনো শারীরিকভাবে হামলা চালানো হয়। এতে শুধু একজন সাংবাদিকই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সমাজের সত্য জানার অধিকার।
সাংবাদিক নির্যাতনের ফলে মানুষ সত্য থেকে দূরে সরে যায়। ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশে সংবাদকর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন না। এর ফলে দুর্নীতি ও অন্যায় আরও বেড়ে যায়। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয় এবং গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই অবস্থার জন্য শুধু অপরাধীরাই দায়ী নয়, আমাদের সামাজিক নীরবতাও দায়ী। অনেক সময় সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পায় না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এই অপরাধকে আরও উৎসাহিত করে। যদি আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ না হয়, তবে এই নির্যাতন থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে আশার কথা হলো, সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করা অসম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন শক্ত আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। পাশাপাশি রাষ্ট্রকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গণমাধ্যম, মানবাধিকার সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—সাংবাদিকদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মানসিকতা গড়ে তোলা। সাংবাদিকরা শত্রু নন, তারা সমাজের কল্যাণে কাজ করেন। সত্য বলার অধিকার রক্ষা করা মানেই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা।
পরিশেষে বলা যায়, সাংবাদিক নির্যাতন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মানবতা ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। যদি আমরা সত্যিই একটি ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত সমাজ গড়তে চাই, তবে সাংবাদিক নির্যাতন বন্ধ করতেই হবে।
প্রশ্নটি হওয়া উচিত—“সাংবাদিক নির্যাতন কি কখনো বন্ধ হবে না?” নয়, বরং
“কীভাবে আমরা একসঙ্গে এটি বন্ধ করব?”


