বাংলাদেশে নারী শিক্ষা কেন জরুরী
নারী সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন নারী ও পুরুষ উভয়েই সমানভাবে শিক্ষার সুযোগ পায়। বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির জন্য নারী শিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। নারী শিক্ষিত হলে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব দিকেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
প্রথমত, নারী শিক্ষা পরিবার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একজন শিক্ষিত মা তার সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারেন। তিনি সন্তানদের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, নৈতিকতা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেন। ফলে একটি সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম তৈরি হয়, যা জাতির ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করে।
দ্বিতীয়ত, নারী শিক্ষা নারীর আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ায়। শিক্ষার মাধ্যমে নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। এতে পরিবারে তার মর্যাদা বাড়ে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে নারী শিক্ষার বড় ভূমিকা রয়েছে।
তৃতীয়ত, নারী শিক্ষা সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে সহায়তা করে। বাল্যবিবাহ, যৌতক, নারী নির্যাতনের মতো সমস্যার মূল কারণ হলো অশিক্ষা ও অজ্ঞতা। শিক্ষিত নারী এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতনভাবে প্রতিবাদ করতে পারে এবং সমাজে ন্যায় ও সমতার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
বাংলাদেশ সরকার নারী শিক্ষার প্রসারে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, মেয়েদের জন্য আলাদা স্কুল ও কলেজ স্থাপন নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে এখনো অনেক এলাকায় দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিক বাধার কারণে মেয়েরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নারী শিক্ষার উন্নয়নের জন্য পরিবারকে মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। মেয়েদের বোঝা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের সর্বস্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, নারী শিক্ষা ছাড়া বাংলাদেশ কখনোই প্রকৃত উন্নয়নের পথে এগোতে পারবে না। একটি আলোকিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে নারী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কারণ।
শিক্ষিত নারী মানেই শিক্ষিত জাতি।


