বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে
বিদ্যুৎ আধুনিক সভ্যতার একটি অপরিহার্য উপাদান। শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের সব ক্ষেত্রেই বিদ্যুতের গুরুত্ব অপরিসীম। একটি দেশের উন্নয়ন অনেকাংশে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্নীতি উন্নয়নের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। তাই বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।
বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির নানা রূপ দেখা যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে ঘুষ গ্রহণ, অবৈধ লাইন স্থাপন, বিল আদায়ে অনিয়ম, যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব—এসবই দুর্নীতির উদাহরণ। এর ফলে সরকার বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয় এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।
দুর্নীতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থায় অকার্যকারিতা সৃষ্টি হয়। অনেক এলাকায় নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় না। লোডশেডিং বৃদ্ধি পায়, শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনগণের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়েরও কারণ। এতে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায়। যারা নিয়ম মেনে বিল পরিশোধ করে, তারা অবিচারের শিকার হয়, আর যারা দুর্নীতির আশ্রয় নেয় তারা সুবিধা পায়। এতে সমাজে অন্যায় ও বৈষম্য বাড়ে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ডিজিটাল বিলিং ব্যবস্থা ও স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ চালু করলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। অবৈধ সংযোগ ব্যবহার না করা, নিয়মিত বিল পরিশোধ করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। গণমাধ্যমকেও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে এবং জনগণের ভোগান্তি বাড়ায়। একটি শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্র গড়তে হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।
আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে শপথ করি।
দুর্নীতিমুক্ত বিদ্যুৎ খাত, উন্নত বাংলাদেশের অঙ্গীকার।

