বিজয়ের মাস শুরু: আমরা কি প্রকৃত স্বাধীন?
ডিসেম্বর মাস এলেই আমাদের হৃদয়ে জেগে ওঠে বিজয়ের আনন্দ ও গর্ব। ১৯৭১ সালের এই মাসেই দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র ও লাল-সবুজের পতাকা। কিন্তু বিজয়ের এই মাসে দাঁড়িয়ে আমাদের নিজেদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা প্রয়োজন—আমরা কি প্রকৃত অর্থে স্বাধীন?
রাজনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। আমাদের নিজস্ব সরকার, সংবিধান ও জাতীয় পরিচয় রয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা শুধু ভৌগোলিক বা রাজনৈতিক সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রকৃত স্বাধীনতা মানে মানুষের চিন্তা, মত প্রকাশ, ন্যায়বিচার এবং নিরাপদ জীবনযাপনের নিশ্চয়তা। যদি সমাজে দুর্নীতি, বৈষম্য, দারিদ্র্য ও অন্যায় এখনও বিরাজ করে, তবে স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ আমরা পাই না।
আজও অনেক মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। শিক্ষার সুযোগ সবার জন্য সমান নয়, চিকিৎসা সেবা সবার কাছে সহজলভ্য নয়। নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বেকারত্ব ও সামাজিক অবিচার আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব সমস্যা প্রমাণ করে যে আমরা রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি মুক্ত নই।
প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই আসবে, যখন প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে কথা বলতে পারবে, ন্যায্য অধিকার পাবে এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবে। তরুণ সমাজকে সৎ, সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং দেশপ্রেমকে শুধু কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে।
বিজয়ের মাস আমাদের আত্মবিশ্লেষণের সুযোগ এনে দেয়। শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে আমাদের একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমরা বলতে পারব—আমরা শুধু স্বাধীন রাষ্ট্রের নাগরিক নই, আমরা প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন।
পরিশেষে বলা যায়, স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি এবং একদিনেই তা রক্ষা করা যায় না। এটি প্রতিদিনের দায়িত্ব, প্রতিদিনের সংগ্রাম।
বিজয়ের মাসে আমাদের শপথ হোক—প্রকৃত স্বাধীনতার পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া।

