এখনই সময় মাদক নির্মূল করার
মাদক আজ আমাদের সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ অভিশাপ। এটি শুধু একজন মানুষকে ধ্বংস করে না, ধ্বংস করে একটি পরিবার, একটি সমাজ এবং শেষ পর্যন্ত একটি জাতিকে। তরুণ প্রজন্ম যখন মাদকের মতো মারাত্মক নেশায় জড়িয়ে পড়ে, তখন দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যায়। তাই এখনই সময় মাদক নির্মূল করার জন্য সবাইকে একযোগে এগিয়ে আসার।
বর্তমান সমাজে মাদকের প্রভাব দিন দিন ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। কিশোর-কিশোরীরা কৌতূহলবশত বা ভুল বন্ধুত্বের কারণে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে। প্রথমে এটি আনন্দ বা সাময়িক সুখ মনে হলেও ধীরে ধীরে এটি জীবনের সর্বনাশ ডেকে আনে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ে, পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ভুলে যায় এবং নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
মাদকের কারণে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয় মারাত্মকভাবে। এটি মানুষের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং অনেক সময় মৃত্যুর কারণও হয়। একই সঙ্গে নৈতিক অবক্ষয় ঘটে, সমাজে চুরি, ছিনতাই ও সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। ফলে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
মাদক নির্মূলের জন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিনটি স্তরে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পরিবারকে হতে হবে প্রথম সচেতনতার কেন্দ্র। বাবা-মাকে সন্তানদের প্রতি যত্নবান হতে হবে এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে, যাতে তারা ভুল পথে না যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু করা জরুরি।
রাষ্ট্রকেও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা। আমাদের প্রত্যেকের উচিত মাদককে “না” বলা এবং অন্যদেরও এই পথ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা। তরুণ সমাজ যদি সচেতন হয়, তবে মাদক নির্মূল করা অসম্ভব নয়।
পরিশেষে বলা যায়, মাদক নির্মূল শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। একটি সুস্থ, সুন্দর ও উন্নত সমাজ গড়তে হলে এখনই সময় মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। আজ যদি আমরা সচেতন না হই, তবে আগামী প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই আসুন, আমরা সবাই একসঙ্গে শপথ করি—
মাদক নয়, জীবনকে বলি হ্যাঁ।
