ঢাকসু নির্বাচন: সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কিছু পরামর্শ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ঢাকসু) নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। দীর্ঘদিন পর যখন ঢাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তখন সেটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নয়, সমগ্র দেশের মানুষকেও আলোচনায় নিয়ে আসে। কারণ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত্তি গড়ে ওঠে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।

তবে একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য কিছু বিষয় অত্যন্ত জরুরি—

1. সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ
নির্বাচনের আগে ও চলাকালে যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি, দমন-পীড়ন বা সহিংসতা না থাকে। ক্যাম্পাসকে সবার জন্য উন্মুক্ত ও নিরাপদ রাখা জরুরি।

2. সমান সুযোগ সৃষ্টি
প্রার্থীরা যাতে সমানভাবে প্রচারণা চালাতে পারেন, তার নিশ্চয়তা দিতে হবে। কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া আধিপত্য থাকলে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয়।

3. শিক্ষার্থীদের সচেতন অংশগ্রহণ
ভোটারদের উচিত যোগ্য প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য তাদের নীতি, কর্মসূচি ও সততার দিকে নজর দেওয়া। বন্ধুত্ব, দলীয় পরিচয় বা চাপের কারণে ভোট না দিয়ে সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

4. প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। তাদের দায়িত্ব হলো নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা, যেন কোনো পক্ষ প্রশাসনিক সুবিধা ভোগ না করতে পারে।

5. নতুন নেতৃত্ব বিকাশ
ঢাকসু নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার প্রতিযোগিতা হিসেবে না দেখে, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা জরুরি। যারা সত্যিকারের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করতে চায়, তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

6. সহিংসতা পরিহার
ছাত্ররাজনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হলো সহিংসতা। নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন যুক্তি ও ভিশনের ভিত্তিতে হয়, সহিংসতায় নয়।

ঢাকসু নির্বাচন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতিপর্ব। তাই সুষ্ঠু পরিবেশ, নিরপেক্ষতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে এটিকে একটি আদর্শ গণতান্ত্রিক চর্চায় রূপান্তরিত করা সবার দায়িত্ব।

Maniruzzaman

I am Maniruzzaman, a free thinker and political commentator, dedicated to unraveling the complexities of Bangladesh’s political landscape.

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button